Blog post, ফেসবুকের গল্প

ফেসবুকের গল্প (পবিত্র প্রত্যাখ্যান)

উত্তেজনায় ঘামছে ইফতেখার। একটা ভয় এবং লোভ কাজ করছে। মাথায় একটা কথাই ঘুরছে “সত্যিই কি আমরা এমন করব?”। একটু আগেই লাবণি ম্যাসেজ দিয়েছে ম্যাসেঞ্জারে। ম্যাসেজ পড়ে কেমন একটা শিহরণ বয়ে গেছে শরীরে।
.
“আগামীকাল বাসায় কেও থাকবে না, তুমি না আসতে চেয়েছিলা। এসো।”
.
মাথায় কেমন যেন একটা নেশা খেলে গিয়েছিল ইফতেখারের মাথায়। ভালোবাসাটা ওকে পাগল করে তুলছে। আজকে লাবণির সাথে ফোনালাপ হল অনেকক্ষণ। দু’জনই কেমন যেন আকুলতায় ঘিরে আছে। কালকের দিনটা নিয়ে শত প্রতীক্ষা। আবার কিছুটা ভয়।
রাতে শুয়ে শুয়ে অনেক্ষণ এসব ভাবলো ইফতি। ভাবতে ভাবতে গভীর ঘুম। ফজরের আগে আগে এসে রাসেল ভাই ডাক দিয়ে এক প্রকার জোর করেই উঠালো। মেসে থাকতে এই একটা কারণেই বিরক্ত লাগে ইফতেখারের। যত্রতত্র মানুষ এসে অনধিকার চর্চা করে। অগত্যা বাধ্য হয়ে নামাজ পড়তে হল।
.
নামাজের পর রাসেল ভাই জোড় করে হাটতে নিয়ে গেলেন। বাহ! সকালটা তো ভারি সুন্দর। এমন মোহনীয় ভোর কতদিন দেখা হয়না ইফতির। সেই কবের কথা যখন বাবার সাথে গ্রামের রাস্তায় হাটত ফজরের পর। রাসেল ভাই বললেন, “ইফতি, তোমাকে ইউটিউবে একটা লিংক পাঠিয়েছি। কুর’আন তিলাওয়াত”। শুনে দেখো তো।
লাবণিদের বাসায় যাবার কথা বিকেলে। হন্টন পর্ব শেষে দ্বিতীয় পর্ব ঘুম দিয়ে বেলা ১২ টা বাজালো ইফতেখার। হাই তুলতে তুলতে বাথরুমে গেল। অতপর নিয়মমত টেবিলে ল্যাপটপ নিয়ে বসল। রাসেল ভাই একটা লিংক পাঠিয়েছে।
.
লিংকে গিয়ে দেখল একটা কুর’আন তিলাওয়াত। কালোমতন একটা আফ্রিকান লোক। তিলাওয়াত করছে। নাম হাদি তোরে। কানে হেডফোন লাগিয়ে একবার শুনল ইফতেখার। তারপর আবার শুনল। কী যেন এক মোহ লুকিয়ে আছে এই তিলাওয়াতের মধ্যে। কতদিন কুর’আন শোনা হয়না। রাসেল ভাইতো ভারি সুন্দর জিনিস দিয়েছেন। আবার শুনল ইফতিখার। গোটা বার পাচেক শোনার পর থিতু হল।
মাথায় একটা আয়াত ঘুরছে “ক্বলাত হাইতা লাক”। কিন্তু এর অর্থ কী এর। রাসেল ভাইকে জিজ্ঞেস করায় উনি খুব সুন্দর করে এই আয়াতের পটভুমি টা শোনালেন।
.
এটা সূরা ইউসুফের আয়াত।। কীভাবে কীভাবে নবি ইউসুফ আলাইহিস সালাম এক নারীর ষরযন্ত্র থেকে বাঁচতে পেরেছিলেন। আল্লাহ কিভাবে তার প্রিয় বান্দাকে অশ্লীলতা থেকে হেফাজত করলেন। চমৎকার এক কাহিনী। রাসেল ভাই আরো বললেন, এজন্যেই এই সূরাকে কুর’আনে আহসানুল কাসাস বলা হয়েছে। আল্লাহ এর মাধ্যমে ইউসুফ আলাইহিস সালাম কে কত মর্যাদায় উন্নীত করেছিলেন তার কাহিনীও শুনল ইফতেখার।
.
বিকালে লাবণির বাসায় যাবার কথা। এখন ৪ টা বাজে। খচখচ করছে বুকের ভেতর ইফতির। কেন ওর বাসায় যাওয়া লাগবে? এতদিন তো বাহিরেই ঘুরতাম। একটু আগে রাসেল ভাইয়ের শোনানোর কাহিনিটা বারবার মনে পড়ছে। প্রাসাদের এক কোনে এক নারী সকলের আড়ালে নবি ইউসুফকে বললেন, “হাইতা লাক”- কাছে এসো। তিনি কোনো কিছু না ভেবে উলটো দৌড় দিয়েছিলেন। আর আমি কিনা উলটো একটা মেয়ের কাছে দৌড়ে যেতে যাচ্ছি! লাবণির বাসায় যাওয়ার উদ্দেশ্য ইফতেখার ভালো করেই জানত। এটা নিতান্ত মনের কোনো প্রেম নয়। দৈহিক একটা চাহিদা। নিতান্তই পাশবিক একটা অবৈধ কাজ। এটুক জ্ঞান তো সকলের বিবেকেই আছে।
৪ টা থেকে ৫ টা। পুরো একটা ঘন্টা ইফতেখার ইউটিউবে সূরা ইউসুফ এর ঐ অংশটুকুর তিলাওয়াত শুনল। মনটাকে শক্ত করে বাঁধল।
ঠিক ৫ টায় লাবণির ম্যাসেজ…
-কোথায় তুমি?
ম্যাসেজ টা পড়ে ইফতেখারের মনে হচ্ছিল মেয়েটা যেন বলছে, “হাইতা লাক(কাছে এসো)”
.
ইফতেখার একবার চেয়েছিল রিপ্লাই দিবে। কিন্তু ভাবল এ রিপ্লাই থেকে শয়তান বহুদূর নিয়ে যেতে পারে।
লাবণিকে ব্লক করে দেবার আগে মনে মনে পড়ল “মা’আযাল্লাহ”(আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই)


“পবিত্র প্রত্যাখ্যান”
– শেখ আসিফ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *