Uncategorized

ফেসবুকের গল্প-১

যেমন লম্বা তেমন সুন্দর মেয়েটা। লম্বা স্ট্রেইট চুল। টানা টানা চোখ। হাতে ছোট একটা পার্টস কানে সাদা হেডফোন। চুইংগাম চাবাচ্ছে। উঠলো বাসে। ঠোটে ঈষৎ গোলাপি লিপস্টিক। কিন্তু সিট পেলো না। দাঁড়িয়ে রইলো ঠিক আমার সামনে। বার কয়েক তাকালো আমার দিকে। দেখতেতো মোটামুটি সুন্দর আমি নিজেও।
অসম্ভব মায়াবী মুখখানা মেয়েটার। বাস কিছুদুর এগোলে আমার অপজিটে ডানের সিট ফাঁকা হয়। মেয়েটা বসে।
আমি চুপচাপ বসে আছি। খেয়াল করলাম, একটু পরপর সে আমার দিকে তাকাচ্ছে। আমিও আড় চোখে তাকিয়ে।
হেল্পার এলো ভাড়া চাইতে। মেয়েটা বলল- আমি স্টুডেন্ট। ভাড়া অর্ধেক নিচ্ছো না কেন?
আমি তার সঙ্গে সুর মিলিয়ে হেল্পারকে ধমক দিলাম। এই ব্যাটা দে অর্ধেক ভাড়া ফেরত দে…
মেয়েটা অর্ধেক টাকা ফেরত পেয়ে আমাকে ধন্যবাদ দিল।
মেয়েটার এক পায়ে নূপুর। একটা মেয়েকে ঠিক যেভাবে সাজালে মনে হয় রাজকণ্যা এই মেয়ে যেন ঠিক সেভাবেই সেজেছে।
বাস নিউমার্কেটে পৌছলে মেয়েটা আমাকে বলল- এক্সকিউজ মি ভাইয়া, আপনি কি এখানে নামবেন? বললাম, নাতো। কেন?
মেয়েটা বলল- সরি, আমি ভেবেছিলাম আপনি হয়তো নেমে যাবেন তাহলে আমি আপনার সিটে বসতাম। আমার সিটটায় খুব রোদ লাগছে।
আমিও পাল্টা সরি বলে বললাম, এইতো আরেকটু পরেই নামবো। আপনি চাইলে আমার সিটে বসতে পারেন।
মেয়েটা তার ভদ্রতার পরিচয় দিয়ে আমাকে মুগ্ধ করল, আগে মুগ্ধ করেছে রুপে- বলল, রিয়েলি সরি ভাইয়া, আমি আসলে আপনাকে উঠে যেতে বলিনি। প্লিজ আপনিই বসুন।
বাস আবারও কিছুদুর গেলে এক বদখৎ ছেলে উঠলো মেয়েটার পাশে। মেয়েটা আনইজি ফিল করছে তার পাশে বসতে। অসহায়ের মত আমার দিকে তাকিয়ে আছে। এমন বদখৎ ছেলে তার পাশে বসায় সে চরম দুঃখ পেয়েছে যেন। চুইংগাম চাবানো থামিয়ে দিল।
আমি বললাম, আপনি আমার সিটে আসুন। আমি আপনারটায় বসি। মেয়েটা খুব খুশি হলো।
আমি তার সিটে বসলাম।
আজিমপুর নেমে গেলাম। ভাবলাম যদি মেয়েটাও নামতো! কি কপাল। একেই বলে রাজকপাল। দেখি মেয়েটাও নামছে। আমি থামলাম। মেয়েটা বলল, একটু শুনবেন প্লিজ! অন্যরকম একটা অনুভূতি কাজ করছে আমার মধ্যে।
তার চাহনিতো আমাকে প্রায় পাগল করে ফেলেছে বাসের মধ্যেই। মেয়েটা এগিয়ে এসে বলল , বাসের মধ্যে আমি আপনাকে অনেক ফলো করেছি। চিনতে পারিনাই। কিন্তু এখন চিনতে পারছি।
মেয়েটার কথা শুনে খুব অবাক হলাম। আবার খুশিও হলাম। অন্যরকম একটা উত্তেজনা। আজকের দিনটা এত সুন্দর লাগছে কেন! হয়তো সে আমাকে ফেসবুকে ফলো করে। এটাই বলবে।
কিন্তু মেয়েটার পরের কথা শুনে আমি ভাষা হারিয়ে ফেললাম। অজ্ঞান হবার মত অবস্থা।
ধমক দিয়ে বলল- গত মাসে আমি নিউমার্কেটে আসছিলাম কসমেটিকস কিনতে। আপনি পেছন থেকে আমাকে ধাক্কা মেরেছিলেন। মনে আছে?
আরে মেয়েটা বলে কি! বললাম, আপনি কি বলছেন এসব?আমি কেন আপনাকে ধাক্কা দিতে যাব? আপনি ভুল করছেন ৷
মেয়েটা দিগুন রেগে আমাকে আবার ধমক দিল- থামেন আপনি। আপনাকে বাসের মধ্যেই ধরতাম। কিন্তু ক্লিয়ার বুঝতে পারছিলাম না। আপনি চুলে হেয়ারজেল দিয়ে স্টাইল পালটেছেন। গোফ ছিলো ছিলো হালকা।
আপনি শুধু আমাকে ধাক্কাই মারেননি সেদিন। দৌড়ে পালানোর সময় আমার পার্টসও নিয়ে পালিয়ে গেছিলেন।
ভদ্রলোকের মত আমার পার্টস ফেরত দিন, নইলে পুলিশ ডাকবো। ফাজিল লোক কোথাকার…
মেয়েটা রেডি হচ্ছে লোকজন ডাকার জন্য। আমি ইয়া আলিইইইই বলে দিলাম এক দৌড়… আগে গণধোলাই এর হাত থেকেতো বাঁচি…
হাঁপাতে হাঁপাতে আমি দৌড়ে চলে গেলাম শাহবাগ। তারপর সোজা বাসে উঠে গুলিস্থান।
মাথা কেমন টনটন করছে। যে মেয়েকেই সামনে দেখছি মনে হচ্ছে তারা চেচিয়ে বলছে- এই হারামজাদা আমার পার্টস দে কইলাম…
ইমরান আলী(সোহানুর রেজা)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *